শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি, দোহার থেকে॥ আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তেই গ্রাস করে নেয় পুরো বসতঘর। গভীর রাতে ঘুমন্ত পরিবারের ওপর নেমে আসে বিভীষিকাময় সেই আগুন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সন্তানদের বাঁচাতেই মরিয়া হয়ে ওঠেন মা নাসিমা বেগম। বুকফাটা আর্তচিৎকারের মধ্যেই একে একে তিন সন্তানকে জানালা দিয়ে বাইরে ছুড়ে দেন তিনি। কিন্তু সন্তানদের জীবন রক্ষা করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের আর বাঁচাতে পারেননি স্বামী-স্ত্রী।
শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে ঘটে হৃদয় বিদারক এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা। এতে দগ্ধ হয়ে মারা যান আব্দুস সালাম শিকদার ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগম। তবে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায় তাদের তিন সন্তান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে হঠাৎ করেই আব্দুস সালাম শিকদারের টিন ও কাঠের তৈরি বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ভয়াবহতা বুঝতে পেরে সন্তানদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন নাসিমা বেগম। তিনি জানালা দিয়ে একে একে তিন সন্তানকে বাইরে ফেলে দেন। পরে প্রতিবেশীরা শিশুদের উদ্ধার করলেও আগুনের ভেতর আটকা পড়ে মারা যান স্বামী-স্ত্রী। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে খবর দেওয়া হয় দোহার থানা ও ফায়ার সার্ভিসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়ে ভোর চারটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় এক সংবাদকর্মী জানান, আগুনে পুরো টিন ও কাঠের ঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হলেও নাশকতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, অগ্নিকান্ডে আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এটি নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে মা-বাবার এমন আত্মত্যাগ স্থানীয়দের চোখেও অশ্রু ঝরিয়েছে।